ডা. বুলবুল ইসলাম 'ঈসা (Dr. Bulbul Islam 'Esa)

ডা. বুলবুল ইসলাম 'ঈসা

কনসালটেন্ট হোমিওপ্যাথ

ডি.এইচ.এম.এস (বি.এইচ.বি)
ফাউন্ডার ডিরেক্টর- গ্লোবাল হোমিও সেন্টার

ঘন ঘন প্রস্রাবের জন্য কোন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খেতে হবে?

ঘন ঘন প্রস্রাবের জন্য কোন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খেতে হবে?

যা যা থাকছে-

একজন প্রশ্ন করেছেন, “আমার খুব বেশী প্রস্রাব হয়। এখন কোন হোমিওপ্যাথিক ওষধ গ্রহণ করলে ভালো হবো, প্লিজ সাজেষ্ট করুন।”

শুরুতেই জেনে নিই-

ঘনঘন প্রস্রাব কেন হয়?

ঘনঘন প্রস্রাবের অন্যতম কারণ বা ধরন হচ্ছে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস। কিন্তু বর্তমানে ডায়াবেটিস বললেই সাধারণত লোকে ডায়াবেটিস মেলাইটাসকেই (diabetes mellitus) বোঝে।  কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটা ডায়াবেটিস মেলাইটাস অর্থাৎ সুগার বেজড ডায়াবেটিসও হতে পারে, আবার  ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস (Diabetes insipidus) বা সুগার লেস ডায়াবেটিসও হতে পারে।

এছাড়াও কিডনি কিংবা ইউরিনারি ট্রাক্ট এ কোন ইনফেকশন, কিডনি ফেইলর, মূত্রথলি বা ব্লাডারে ইনফেকশান বা ত্রুটি কিংবা শরীরের অন্য কোন ব্যবস্থায় কোন সমস্যার কারণে এ ধরনের ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অনেক সময় অনেক উগ্র ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াতেও এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। 

ঘনঘন প্রস্রাবের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং সাধারণ অস্বস্তির অনুভূতি অনুভব করতে পারেন। এমনকি এর জন্য অনেকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রচন্ড রকমের ব্যাহত হতে পারে ।

এবার আসি মূল প্রশ্নে, অর্থাৎ

ঘনঘন প্রস্রাবের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কী?

এলোপ্যাথিতে সাধারণত এন্টিবায়োটিক সহ অন্যান্য ব্যবস্থা  প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে হোমিওপ্যাথিতে এর সুন্দর চিকিৎসা রয়েছে। 

ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যায় ব্যবহৃত কিছু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ এবং তাদের প্রয়োগিক লক্ষণগুলি নিম্নরূপ:

1. Cantharis

  • প্রস্রাব করার সময় তীব্র জ্বালাপোড়া ও ব্যথা।
  • ঘন ঘন প্রস্রাবের তাগিদ, কিন্তু পরিমাণে কম।
  • প্রস্রাবের রং গাঢ় ও দুর্গন্ধযুক্ত।
  • মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI) এর ক্ষেত্রে কার্যকর।

2. Equisetum

  • প্রস্রাব করার পরও মূত্রথলি পূর্ণ থাকার অনুভূতি।
  • প্রস্রাব করার সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া নেই, কিন্তু ঘন ঘন প্রস্রাবের তাগিদ।
  • শিশুদের রাতের সময় প্রস্রাবের সমস্যায় কার্যকর।

3. Apis Mellifica

  • প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া ও চিনচিনে ব্যথা।
  • প্রস্রাবের পরিমাণ কম ও ঘন ঘন তাগিদ।
  • মূত্রথলি ফুলে যাওয়ার অনুভূতি।
  • প্রস্রাব করার শেষে ব্যথা বৃদ্ধি পায়।

4. Nux Vomica

  • ঘন ঘন প্রস্রাবের তাগিদ, বিশেষত রাতের বেলা।
  • প্রস্রাব করার সময় অল্প পরিমাণে প্রস্রাব হয়।
  • মদ্যপান বা মসলাযুক্ত খাবারের পর লক্ষণ বৃদ্ধি পায়।
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা।

5. Sarsaparilla

  • প্রস্রাব করার শেষে তীব্র ব্যথা।
  • প্রস্রাবের রং ঘোলাটে ও বালির মতো কণা থাকতে পারে।
  • মূত্রনালীতে পাথর বা বালির সমস্যায় কার্যকর।

6. Pulsatilla

  • ঘন ঘন প্রস্রাবের তাগিদ, বিশেষত রাতের বেলা।
  • প্রস্রাবের রং হালকা ও পরিমাণে বেশি।
  • মানসিক চাপ বা আবেগপ্রবণ অবস্থায় লক্ষণ বৃদ্ধি পায়।
  • মহিলাদের মাসিক চক্রের সময় প্রস্রাবের সমস্যা।

7. Berberis Vulgaris

  • প্রস্রাব করার সময় তীব্র ব্যথা, যা মূত্রথলি থেকে কুঁচকি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
  • প্রস্রাবের রং গাঢ় ও দুর্গন্ধযুক্ত।
  • মূত্রনালীতে পাথর বা বালির সমস্যায় কার্যকর।

8. Sepia

  • ঘন ঘন প্রস্রাবের তাগিদ, বিশেষত সকালের দিকে।
  • প্রস্রাব করার সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া নেই।
  • মহিলাদের প্রস্রাবের সমস্যা, বিশেষত গর্ভাবস্থায় বা মেনোপজের পর।

9. Lycopodium

  • ঘন ঘন প্রস্রাবের তাগিদ, বিশেষত বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে।
  • প্রস্রাবের রং গাঢ় ও দুর্গন্ধযুক্ত।
  • মূত্রথলিতে পাথর বা বালির সমস্যায় কার্যকর।

10. Causticum

  • ঘন ঘন প্রস্রাবের তাগিদ, বিশেষত রাতের বেলা।
  • প্রস্রাব করার সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া নেই।
  • বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রস্রাবের সমস্যায় কার্যকর।

সতর্কতাঃ

এই ঔষধগুলি ব্যবহারের আগে একজন নির্ভরযোগ্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ লক্ষণ ও রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ঔষধ নির্বাচন করা প্রয়োজন।

প্রকৃত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকেরা রোগীর যাবতীয় শারীরিক এবং মানসিক লক্ষণ সংগ্রহ করে তার ওপর ভিত্তি করে একটি সিমিলিমাম ঔষধ নির্বাচন করেন। আর সেই ঔষধটি হোমিওপ্যাথিক বাক্সের যে কোন ঔষধই হতে পারে। অর্থাৎ লক্ষণ সাদৃশ্য হলে এখানে প্রদত্ত ঔষধগুলোর পাশাপাশি হোমিওপ্যাথিক বাক্সের যে কোন ঔষধই ঘনঘন প্রস্রাবের রোগে প্রযোজ্য হতে পারে।

অর্থাৎ, হোমিওপ্যাথিতে নির্দিষ্ট রোগের বিপরীতে কোন নির্দিষ্ট ঔষধ বা ঔষধের গ্রুপ হতে পারে না। রোগীর শারীরিক এবং মানসিক লক্ষণসমূহই বলবে তার জন্য কোন ঔষধ দরকার। 

কাজেই এসমস্ত ক্ষেত্রে এভাবে রোগের নাম বলে ওষুধ না খুঁজে রোগীর উচিত হবে একজন নির্ভরযোগ্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং তার আন্ডারে থেকে চিকিৎসা নেওয়া।

নির্ভরযোগ্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক চেনার উপায় জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আর আমাদের কাছ থেকে অনলাইনে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হলে এখানে ক্লিক করুন এবং আপনার যাবতীয় তথ্য দিয়ে সাবমিট করুন।

 

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp

দৃষ্টি আকর্ষণ

আপনি কি আপনার নিজের কিংবা আপনার কোন আপন জনের রোগ বা স্বাস্য সংক্রান্ত কোন বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন? কীভাবে কী করবেন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না?

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরামর্শ পেতে নিচের ফরমে সমস্যাগুলোর বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সাবমিট করুন।