Last Updated on September 9, 2026 by ডা. বুলবুল ইসলাম 'ঈসা
“অন্ডকোষে চুলকানি, অন্ডকোষে প্রচুর চুলকায় এবং চুলকালে চামড়া উঠে যায়। এরপর অন্ডকোষের উপর একপ্রকার চলটা সিস্টেম কালো আবরণ হয়। সমস্যাটা অনেকদিনের। এখন কীভাবে এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারি?”
এ ধরনের প্রশ্ন অনেক পুরুষের কাছ থেকেই পাওয়া যায়। অন্ডকোষ বা তার আশপাশে দীর্ঘদিন চুলকানি শুধু অস্বস্তিকরই নয়, বারবার চুলকানোর কারণে ত্বক উঠে যাওয়া, ক্ষত হওয়া, ত্বক মোটা ও কালচে হয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে আরও বেশি চুলকানির সৃষ্টি হতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী চুলকানিকে অবহেলা না করে এর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
অন্ডকোষে চুলকানি কেন হয়?
অন্ডকোষ ও কুঁচকির চামড়ায় চুলকানির পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। যেমন—
ফাঙ্গাল ইনফেকশন: উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে ছত্রাক সহজে বৃদ্ধি পেতে পারে। কুঁচকির ফাঙ্গাল সংক্রমণে সাধারণত লালচে, খসখসে ও তীব্র চুলকানিযুক্ত র্যাশ দেখা যায়।
একজিমা বা ডার্মাটাইটিস: সাবান, ডিটারজেন্ট, সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী, অতিরিক্ত ঘাম কিংবা কোনো নির্দিষ্ট উপাদানের সংস্পর্শে ত্বকে প্রদাহ ও চুলকানি হতে পারে।
অতিরিক্ত ঘাম ও ঘর্ষণ: দীর্ঘসময় ঘামযুক্ত অবস্থায় থাকা, আঁটসাঁট অন্তর্বাস পরা বা হাঁটা-চলার সময় অতিরিক্ত ঘর্ষণ থেকেও চুলকানি ও ত্বকের জ্বালাপোড়া হতে পারে।
বারবার চুলকানোর অভ্যাস: কোনো কারণে চুলকানি শুরু হওয়ার পর বারবার আঁচড়ানোর ফলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধীরে ধীরে ত্বক মোটা, শক্ত ও কালচে হয়ে যেতে পারে। এটিকে অনেক সময় chronic scratching-এর ফল হিসেবে দেখা যায়।
এছাড়া স্ক্যাবিস, সোরিয়াসিসসহ আরও কিছু চর্মরোগেও যৌনাঙ্গের আশপাশে চুলকানি হতে পারে।
কী কী সমস্যা হতে পারে?
দীর্ঘদিন চুলকানি থাকলে রোগী সাধারণত বারবার চুলকাতে থাকেন। ফলে—
ত্বকের উপরিভাগ উঠে যেতে পারে
ছোট ছোট ক্ষত বা ফাটল হতে পারে
ত্বক মোটা ও শক্ত হয়ে যেতে পারে
কালচে বা বাদামি আবরণ তৈরি হতে পারে
জ্বালাপোড়া ও ব্যথা হতে পারে
ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে
চুলকানি আরও বেড়ে যেতে পারে
অতিরিক্ত চুলকানোর ফলে ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধী স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে দ্বিতীয়বার সংক্রমণও হতে পারে।
অন্ডকোষের চুলকানিতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় শুধু “অন্ডকোষে চুলকানি” এই একটি লক্ষণ দেখে সবার জন্য একই প্রেসক্রিপশন নির্ধারণ করা হয় না। রোগীর চুলকানির ধরন, কখন বাড়ে বা কমে, কী কারণে শুরু হয়েছে, ত্বকের পরিবর্তন, ঘাম, গরম-ঠান্ডার প্রভাব, ঘুমের সময়ের পরিবর্তন, মানসিক বৈশিষ্ট্য এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত লক্ষণ মিলিয়ে রোগীর সামগ্রিক চিত্র বা Totality of Symptoms বিবেচনা করা হয়।
বিশেষ করে দীর্ঘদিনের ক্ষেত্রে রোগীর ত্বকের বর্তমান অবস্থা এবং রোগের গতিপ্রকৃতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। একই ধরনের চুলকানি হলেও দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে কারণ ও উপসর্গের সম্পূর্ণ চিত্র ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু কারও পরামর্শে একটি নির্দিষ্ট ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার না করে অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে কেস নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অন্ডকোষের ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী র্যাশ, ক্ষত, রক্তপাত, পুঁজ, তীব্র ব্যথা, ফুলে যাওয়া বা দ্রুত পরিবর্তন দেখা দিলে সরাসরি চিকিৎসকের শারীরিক পরীক্ষা প্রয়োজন। কারণ দেখতে একই রকম হলেও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর চর্মসমস্যায় সঠিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্ডকোষের স্বাস্থ্যবিধি কীভাবে বজায় রাখবেন?
অন্ডকোষ ও যৌনাঙ্গের ত্বক সংবেদনশীল। তাই অতিরিক্ত পরিষ্কার করার চেষ্টা করাও অনেক সময় সমস্যা বাড়াতে পারে।
প্রতিদিন পরিষ্কার পানি দিয়ে আলতোভাবে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। সুগন্ধিযুক্ত সাবান, পারফিউম, ডিওডোরেন্ট বা শক্তিশালী রাসায়নিক জাতীয় পণ্য যৌনাঙ্গের ত্বকে ব্যবহার না করাই ভালো। ধোয়ার পর ঘষাঘষি না করে নরম কাপড় দিয়ে আলতোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।
অতিরিক্ত আঁটসাঁট অন্তর্বাস এড়িয়ে ঢিলেঢালা ও বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পোশাক ব্যবহার করা উচিত। ঘাম হলে অন্তর্বাস পরিবর্তন করতে হবে এবং দীর্ঘসময় ভেজা বা ঘামযুক্ত অবস্থায় থাকা উচিত নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—চুলকাবেন না। চুলকালে সাময়িক স্বস্তি পেলেও এতে ত্বকের ক্ষতি এবং চুলকানি দুটোই বাড়তে পারে।
শেষ কথা
অন্ডকোষে দীর্ঘদিনের চুলকানি, চামড়া উঠে যাওয়া এবং পরবর্তীতে কালচে বা মোটা আবরণ তৈরি হওয়াকে শুধু সাধারণ চুলকানি হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর পেছনে ফাঙ্গাল সংক্রমণ, একজিমা, ডার্মাটাইটিস, দীর্ঘদিনের scratching habit বা অন্য কোনো চর্মরোগ থাকতে পারে।
সঠিক কারণ নির্ণয় করে রোগীর সম্পূর্ণ উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসা নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায়ও তাই ব্যক্তিভেদে কেস বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। নিজের ইচ্ছায় কোনো ওষুধ ব্যবহার না করে নির্ভরযোগ্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।