ডা. বুলবুল ইসলাম 'ঈসা (Dr. Bulbul Islam 'Esa)

ডা. বুলবুল ইসলাম 'ঈসা

কনসালটেন্ট হোমিওপ্যাথ

ডি.এইচ.এম.এস (বি.এইচ.বি)
ফাউন্ডার ডিরেক্টর- গ্লোবাল হোমিও সেন্টার

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম

যা যা থাকছে-

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম নিয়ে অনেক রোগী এমনকি অনেক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের মধ্যেও কনফিউশন রয়েছে। যে কারণে সঠিকভাবে নির্বাচিত ঔষধও অনেক সময় ভুল ভাবে ভুল নিয়মে প্রয়োগ হচ্ছে। ফলে আসছে না কাঙ্খিত আরোগ্য।

এইসব কারণে অনেক সময় অনেকেই “এসিড ফস ২০০ খাওয়ার নিয়ম কী?”, “এগনাস কাস্ট মাদার খাওয়ার নিয়ম কী?”, “থুজা 1M কিভাবে খাব?” ইত্যাদি নানান ধরনের প্রশ্ন করে থাকেন।

এখন এভাবে প্রত্যেকটা ওষুধের জন্য আলাদা আলাদা করে যদি নিয়ম লিখতে যাই তাহলে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ এর সংখ্যা অনুযায়ী পাঁচ থেকে সাত হাজার আর্টিকেল লেখার দরকার হয়। এমনকি আমরা একই ওষুধের আলাদা আলাদা শক্তির জন্য আলাদা আলাদা প্রশ্ন পাই। যেমন- কেউ জিজ্ঞেস করছেন এসিড ফস Q (মাদার টিংচার) কিভাবে খাব? আবার কেউ জিজ্ঞেস করছেন এসিড ফস ২০০ কিভাবে খাব? আবার কেউ হয়তো জিজ্ঞেস করছেন এসিড কস 1M (১০০০) বা 10M (১০০০০) কিভাবে খাব?

এখন ভাবুন তো, এভাবে চলতে থাকলে অনন্তকাল ধরে লিখলেও কি আর্টিকেল লেখা শেষ হবে আমার? হবে না। আর তাই আজ এমন একটা আর্টিকেল লিখতে চলেছি যেটা পড়লে রোগীরা হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার নিয়ম এবং শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা রোগীতে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগের সঠিক নিয়ম সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা লাভ করতে পারবেন। অর্থাৎ আমার সমস্ত পাঠকদেরকেই হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা দেয়া যাবে। চলুন শুরু করা যাক।

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম

যেকোনো ভাষার একটি গল্প পড়তে বা লিখতে হলে যেমন  বর্ণমালা, শব্দার্থ,  বাক্য গঠন প্রণালী সহ সেই ভাষার ব্যাকরণ শাস্ত্রের ওপর কিছু মৌলিক জ্ঞান থাকা অত্যাবশ্যক,  ঠিক তেমনি যে কোন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম জানতে হলেও কিছু ব্যাপারে কিছু মৌলিক জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরী। চলুন একে একে সেই সমস্ত অত্যন্ত জরুরী এবং অত্যাবশ্যকীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে ধারণা নেয়া যাক।

রোগ বিষয়ক জ্ঞান

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম জানতে হলে আগে রোগ সম্পর্কে জানা জরুরী। কারণ ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীর রোগের জন্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম ভিন্ন ভিন্ন হয়। হোমিওপ্যাথিক থিওরি অনুযায়ী রোগসমূহকে প্রাথমিকভাবে দুই ভাগে ভাগ করা যায় যথা একিউট ডিজিজ বা তরুণ রোগ এবং ক্রনিক ডিজিজ বা পুরাতন রোগ।

একিউট ডিজিজ বা তরুণ রোগ গুলো সাধারণত হঠাৎ আক্রমণ করে এবং দ্রুত গতিতে অগ্রসর হয়। দ্রুত প্রতিকার করা না গেলে এই শ্রেণীর রোগের রোগীদের অবস্থা দ্রুত অবনতি হয়ে অনেক সময় প্রাণ সংশয় দেখা দেয়। এই শ্রেণীর রোগীতে আমরা সুনির্বাচিত ঔষধ ঘন ঘন প্রয়োগ করে থাকি। ওষুধের পরপর দুইটা ডোজের মধ্যবর্তী সময় সাধারণত ছয় ঘন্টা, তিন ঘন্টা বা এক ঘন্টা হয়ে থাকে। এমনকি এমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে ১০ মিনিট বা পাঁচ মিনিট পর পরও ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।

ক্রনিক ডিজিজ বা পুরাতন রোগ গুলো সাধারণত দৃষ্টির অগোচরে ধীরে ধীরে আক্রমণ ঘটায় এবং ধীর গতিতে অগ্রসর হতে থাকে। রোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছালেই সাধারণত এই সমস্ত রোগ ধরা পড়ে। এই শ্রেণীর রোগের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম তরুন রোগের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন।

এসব ক্ষেত্রে সাধারণত ১২ বা ২৪ ঘন্টা অন্তর ওষুধের একটা বা দুইটা ডোজ প্রয়োগ করে দীর্ঘ সময় রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। তারপর তার অবস্থার উন্নতি-অবনতি বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে ঔষধের পরবর্তী ডোজ বা মাত্রা প্রয়োগ করা হয়। আর এই দীর্ঘ সময়টা ৭ দিন, ১০ দিন, ১ মাস, ২ মাস, ৬ মাস, এমনকি ১ বছর বা তারও অধিক হতে পারে। মনে রাখতে হবে পূর্ববর্তী ডোজের ক্রিয়া যতদিন পর্যন্ত চলমান থাকবে ততদিনের মধ্যে যদি ঔষধের অহেতুক পুনঃপ্রায়োগ করা হয় তাহলে আরোগ্য ক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এমনকি অনেক সময় তা একেবারেই নষ্ট হতে পারে।

কাজেই রোগীরকে একটা ঔষধ প্রয়োগ করাই শেষ কথা নয়। ওষুধের ক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাও অত্যন্ত জরুরি। এইসব কারণে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম না জানার কারণেই অনেক চিকিৎসক সঠিক ঔষধ নির্বাচন করেও রোগী আরোগ্য করতে ব্যার্থ হয়।

যাইহোক, রোগ বিষয়ক জ্ঞান এর মধ্যে আর একটা বিষয় উল্লেখযোগ্য যে, রোগ অধিক শক্তিশালী হলে কিংবা অধিক পুরাতন হলে ঔষধও অধিক উচ্চশক্তিতে প্রয়োগ করার বিধান।

রোগীর সম্পর্কে জ্ঞান

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম

যেকোনো হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম নির্ধারণ করতে হলে রোগ সম্পর্কে জ্ঞানের পরে রোগীর সম্পর্কেও জ্ঞান থাকতে হবে। রোগীর সম্পর্কে জ্ঞান বলতে রোগীর ভাইটাল ফোর্স বা জীবনী শক্তি সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। একটা ২৬ বছরের যুবককে আমরা যে পরিমাণ ঔষধ যে শক্তিতে প্রয়োগ করতে পারব একটা ২৬ মাসের বাচ্চাকে তো আর সাধারণ ভাবে সেই পরিমাণ ঔষধ সেই শক্তিতে প্রয়োগ করতে পারবো না, তাই না? একইভাবে একজন ৮০ বছর বয়স্ক জরাজীর্ণ স্বাস্থ্যের দুর্বল মানুষকেও অধিক শক্তি বা মাত্রার ঔষধ কোনোভাবেই দিতে পারব না।

কাজেই যে কোন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করতে হলে দেখতে হবে যে, আমি যে রোগীতে ঔষধটা প্রয়োগ করছি তার বহন ক্ষমতা কেমন অর্থাৎ তার জীবনী শক্তি কতটা শক্তিশালী।

রোগীর জীবনীশক্তি শক্তিশালী হলে সুনির্বাচিত ঔষধ প্রয়োজনে উচ্চশক্তিতে এবং বড় মাত্রায় প্রয়োগ করা যায়। কিন্তু জীবনীশক্তি দুর্বল হলে সেখানে সাবধান হওয়া একান্ত আবশ্যক।

ঔষধ বিষয়ক জ্ঞান

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়মের মধ্যে ঔষধ বিষয়ক জ্ঞান বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করার আগে সেই ঔষধ সম্পর্কে একটা সাম্যক জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরী। হোমিওপ্যাথিক ঔষধের বেশ কয়েকটি উৎস রয়েছে যেমন- উদ্ভিজ (Plant) , প্রাণী(Animal), খনিজ(Mineral), রোগজ (Nosode) , গ্রন্থি (Sarcode), শক্তিজ(Imponderabilia)।

ভিন্ন ভিন্ন উৎসের ঔষধের ক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন গভীরতার হয়। যে ওষুধের ক্রিয়া যত গভীর সে ঔষধের মাত্রা তত কম এবং ওষুধের পরপর দুটো ডোজ এর মধ্যবর্তী সময়ও তত অধিক হতে হবে। রোগজ (Nosode) ঔষধগুলোর ক্রিয়া সাধারণত অনেক গভীর হয় এবং এগুলো সাধারণত দীর্ঘক্রিয় হয়। এজন্য এই জাতীয় ঔষধ গুলো প্রায়ই একটা বা দুটো মাত্রার পরে আর প্রয়োগ করার প্রয়োজন হয় না।

ঔষধের শক্তি বিষয়ক জ্ঞান

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম এর মধ্যে ওষুধের শক্তি নির্বাচন একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। অ্যালোপ্যাথি সহ অন্যান্য সকল ঔষধের প্রয়োগ নীতি নির্ধারণ করা হয় কেবলমাত্র ওষুধের পরিমাণ দিয়ে। যেমন ৫ মিলি গ্রাম (5mg), ১০ মিলি গ্রাম (10mg), ৫০০ মিলি গ্রাম (500mg) ইত্যাদি। কিন্তু হোমিওপ্যাথিই একমাত্র চিকিৎসা ব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকটা ওষুধেরই আলাদা আলাদা শক্তি রয়েছে। এবং ঔষধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে ওষুধের পরিমাণ অর্থাৎ মাত্রার পাশাপাশি এখানে শক্তিটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হোমিওপ্যাথিক ওষুধের শক্তি সাধারণত তিন ধরনের স্কেলে নিরূপণ করা হয়; দশমিক (Decimal), শততমিক (Centesimal) এবং ৫০ সহস্রতমিক (50 Millesimal)।

দশমিক (Decimal) স্কেলে ঔষধের শক্তি সমূহ 1x, 3x, 6x, 12x, 30x, 200x প্রভৃতি ভাবে লেখা হয়।
শততমিক (Centesimal) স্কেলে ঔষধের শক্তি সমূহ 6, 30, 200, 1M, 10M, 50M প্রভৃতি এবং ৫০ সহস্রতমিক (50 Millesimal) স্কেলে ঔষধের শক্তি সমূহ 1/0, 2/0, 3/0, 4/0 প্রভৃতি ভাবে লেখা হয়। অবশ্য কেউ কেউ ৫০ সহস্রতমিক ওষুধের শক্তিকে 0/1, 0/2, 0/3 কিংবা LM 1, LM 2, LM 3 বা M1, M2, M3 প্রভৃতি ভাবেও লেখে। যেভাবেই লিখুক ঘটনা একই।

যাই হোক রোগের গভীরতা অনুযায়ী ওষুধের শক্তি কম বেশি করা হয়। একিউট ডিজিজ বা তরুণ রোগে সাধারণত নিম্ন শক্তির ঔষধ প্রয়োগ করা হয়। আর ক্রনিক ডিজিজ বা পুরাতন রোগে উচ্চশক্তির ঔষধ প্রয়োগ করা হয়। এছাড়া ৫০ সহস্রতমিক (50 Millesimal) ওষুধের ক্ষেত্রে যে কোন রোগে ঔষধ নিম্ন শক্তি থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে হচ্ছে শক্তিতে যাওয়া যায়।

ঔষধের ডোজ বা মাত্রা বিষয়ক জ্ঞান

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম

ওষুধের ডোজ বা মাত্রা হচ্ছে রোগীকে একবারে কতটুকু ঔষধ খাওয়ানো হবে তার পরিমাণ। হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম নীতির মধ্যে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

হোমিওপ্যাথিতে সাধারণত রোগের বর্তমান লক্ষণের সদৃশ্য লক্ষণ উৎপন্ন করতে পারে এমন ঔষধ দ্বারাই চিকিৎসা করা হয়। আর এ কারণেই হোমিওপ্যাথিতে সুনির্বাচিত ওষুধ প্রয়োগের পরে রোগ লক্ষণ বেড়ে যেতে দেখা যায় যাকে হোমিওপ্যাথিক বৃদ্ধি বলে অভিহিত করা হয়। ওষুধের ডোজ বা মাত্রা বেশি হলে এই বৃদ্ধি বেশি হয়। ফলে রোগীর রোগ কষ্ট বৃদ্ধি পায়। এমনকি অনেক সময় প্রাণ সংশয় ও দেখা দিতে পারে।

তাই এই হোমিওপ্যাথিক বৃদ্ধিকে এড়াতে বা যথাসম্ভব কম করার লক্ষ্যে হোমিওপ্যাথিতে ঔষধ খুবই সূক্ষ্ম মাত্রায় প্রয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে প্রত্যেক গ্রহণযোগ্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের কাছেই ঔষধ সিক্ত একটি বা দুটি অনুবটিকাই (Globules) একটা রোগীর জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়। এই অনুভূতি কাকে পাঁচ মিলি ১০ মিলি বা ১০০ মিলি পাতিত পানিতে (Distilled water) গুলে সেখান থেকে রোগীকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর প্রয়োগ করা হয়। রোগীর জীবনীশক্তি বিবেচনায় তাতেও হোমিওপ্যাথিক বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকলে আরো অধিক পরিমাণ পানিতে মিশিয়ে ঔষধকে আরো হালকা করা হয়।

কিন্তু দুঃখের বিষয় আজকাল রাস্তার মোড়ে মোড়ে ব্যাংকের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা প্রায় সকল তথাকথিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম নীতি না জেনে বা জানলেও তার তোয়াক্কা না করে রোগীকে স্থূলমাত্রায় অর্থাৎ মূল ঔষধ বোতল ভরে ভরে প্রয়োগ করে। এবং তাদের প্রায় সকলেই রোগীকে এক সময়ে একটি ওষুধ প্রয়োগ না করে কয়েকটি করে ঔষধ প্রয়োগ করে। করে ফলে রোগীর প্রকৃত আরোগ্য তো আসেই না উল্টে রোগীর ক্ষতি হয়।

ফলাফল পর্যবেক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জ্ঞান

ঔষধ প্রয়োগের পর তার ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার বা প্রয়োগের সঠিক নিয়ম নীতির আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কারণ প্রদত্ত ওষুধের ক্রিয়া কেমন হচ্ছে বা না হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাবার বা প্রয়োগের পরবর্তী সকল সিদ্ধান্ত।

ঔষধের ক্রিয়া যত সময় বা যতদিন চলমান থাকবে তত সময় বা ততদিন ঔষধের পরবর্তী মাত্রা প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রকৃত ঔষধের ক্রিয়া শেষ হয়ে গেলে ঔষধের পরবর্তী ডোজ প্রয়োগ করতে হবে।

সঠিকভাবে ঔষধ প্রয়োগ করার পরেও যখন আর ওষুধ কাজ করছে না তখন পুনরায় কেস টেকিং করে পরবর্তী নতুন ঔষধ নির্বাচন করতে হবে।

ঔষধ যদি ভুল হয়, এবং রোগীতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, তাহলেও সেই ঔষুধের ক্রিয়া নাশক প্রয়োগ করতে হবে। এই সকল ব্যবস্থাপনাও চিকিৎসার অন্তর্ভুক্ত। এদেরকে সেকেন্ড প্রেসক্রিপশন বলা হয়।

সারকথা

আশা করি মোটামুটি একটা ধারণা দেওয়া গেল। কিন্তু এগুলোই সব নয়। যারা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বন্ধু রয়েছেন তাদের উচিত হোমিওপ্যাথিক ঔষধের শক্তি, মাত্রা ও প্রয়োগ বিজ্ঞানের উপর আরো পড়াশোনা করা এবং একজন সাধারন পাঠক বা রোগীর উচিত একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের আন্ডারে থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করা। কারণ স্বাস্থ্য মহামূল্যবান সম্পদ। সুতরাং চিকিৎসা বিষয়ে হেলাফেলা করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল মানুষের কাজ নয়।

গ্লোবাল হোমিও সেন্টার থেকে এ ব্যাপারে আপনি যে যে সুবিধা পেতে পারেন

অপশন- ১

আপনার আশেপাশে কোন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক পাওয়া না গেলে আমাদের অনলাইন চিকিৎসা পরিষেবা থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন।

অনলাইনে চিকিৎসা নিতে এখানে ক্লিক করে আপনার এবং আপনার রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সাবমিট করুন। আপনার দেওয়া তথ্য গুলো স্টাডি করে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

অপশন- ২

যদি আপনি কেবল আপনার জন্য নির্বাচিত ঔষধটি কোন নিয়মে খাবেন সেটাই জানতে চান তাহলে নিচের ফরমের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন। আপনার দেওয়া তথ্য গুলো স্টাডি করে আপনার জন্য নির্বাচিত ঔষধটি খাওয়ার নিয়ম জানিয়ে দেয়া হবে।

এই সেবাটি সম্পূর্ণ ফ্রি!

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp

দৃষ্টি আকর্ষণ

আপনি কি আপনার নিজের কিংবা আপনার কোন আপন জনের রোগ বা স্বাস্য সংক্রান্ত কোন বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন? কীভাবে কী করবেন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না?

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরামর্শ পেতে নিচের ফরমে সমস্যাগুলোর বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সাবমিট করুন।